ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের দুর্দান্ত জয়।

,টি-টোয়ন্টি সংস্করণে ভারতের বিপক্ষে এর আগে ৮ ম্যাচের কোনটিতেই জেতেনি বাংলাদেশ। তার ওপর দলে নেই সাকিব-তামিম। প্রধান দুই তারকাহীন বাংলাদেশ ভারতের মাটিতে ভারতকে হারাতে পারবে— এমন ভাবনা কে ভেবেছিল?


মনে হচ্ছিল এই বুঝি আশা শেষ বাংলাদেশ জয়ের,। সৌম্য সরকারের বিদায়ে, কিন্তু না।
১৪৯ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিং করতে টাইগারদের পক্ষ্যে মাঠে আসেন দুই ওপেনিং ব্যাটসম্যান অভিষিক্ত নাঈম শেখ এবং লিটন দাস।ভারতের পক্ষ্যে বোলিংয়ে আসেন দীপক চাহার। শুরুতেই লিটনের উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে টাইগাররা।
দলীয় ৮ রানের মাথায় ব্যাক্তিগত ৭ রান নিয়ে দীপক চাহারের বলে বিদায় নেন লিটন। লিটনের বিদায়ের পর মাঠে আসেন বামহাতি ব্যাটসম্যান সৌম্য সরকার। নাঈম শেখকে সাথে নিয়ে শুরুর চাপ সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন সৌম্য। লিটন বিদায় নিলেও দারুন ব্যাটিং করেন অভিষিক্ত নাঈম শেখ। রীতিমতো ভারতের বোলারদের শাষন করেন নাঈম।
নাঈম শেখকে দেখে রীতিমতো জ্বলে উঠেন সৌম্য। নাঈম-সৌম্যের দারুন ব্যাটিংয়ে এগিয়ে যায় টাইগারদের ইনিংস। কিন্তু হটাৎ খেই হারিয়ে পেলেন নাঈম। দলীয় ৫৪ রানের মাথায় ব্যাক্তিগত ২৬ রান নিয়ে চাহালের বলে বিদায় নেন নাঈম।
নাঈমের বিদায়ের পর মাঠে আসেন অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিম। সৌম্যকে সাথে নিয়ে দেখে শুনে ব্যাটিং শুরু করছেন মুশফিক। দারুন ব্যাটিংয়ের পর হটাৎ তালগোল ফাকিয়ে পেলেন সৌম্য। দলীয় ১১৪ রানের মাথায় ব্যাক্তিগত ৩৯ রান নিয়ে খলিলের বলে বিদায় নেন সৌম্য সরকার।
সৌম্য চলে গেলে ও আশা বাচিয়ে রাখেন মুশফিকুর রহিম, ও মাহমুদ উল্লাহ রিয়াদ।তাদের অবদানের কারণে ম্যাচ জিতে যায় বাংলাদেশ।  এর আগে দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে টস জিতেছেন বাংলাদেশ দলের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। প্রথমে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।
টসে হেরে ব্যাটিংয়ে আসেন ভারতের দুই ওপেনিং ব্যাটসম্যান শিখর ধাওয়ান এবং রোহিত শর্মা। বাংলাদেশের পক্ষ্যে বোলিংয়ে ওপেনিংয়ে আসেন সফিউল। শুরুতেই বাংলাদেশে চাপে রাখার চেষ্টা করেন রোহিত।
কিন্তু রোহিতকে বেশিক্ষন মাঠে থাকতে দেননি সফিউল। দলীয় ১০ রানের মাথায় ব্যাক্তিগত ৯ রান নিয়ে শফিউলের বলে বিদায় নেন রোহিত। রোহিতের বিদায়ের পর মাঠে আসেন আরেক ডানহাতি ব্যাটসম্যান কে এল রাহুল। শিখার ধাওয়ানকে সাথে নিয়ে শুরুর ধাক্কা সামলে উঠেন রাহুল।
বিদ্ধ্বংসী হওয়ার আগে আমিনুলের বলে বিদায় নেন রাহুল। দলীয় ৩৬ রানের মাথায় ব্যাক্তিগত ১৫ রান নিয়ে আমিনুলের বলে বিদায় নেন রাহুল। রাহুলের বিদায়ের পর চাপে পড়ে ভারত। সেই চাপ সামলে দলকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্যে মাঠে আসেন শ্রেয়াস আয়ার।ধাওয়ানকে সাথে নিয়ে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন শ্রেয়াস আয়ার। কিন্তু শ্রেয়াস আয়ারকে বেশিক্ষন স্থায়ী হতে দেননি আমিনুল।
দলীয় ৭০ রানের মাথায় ব্যাক্তিগত ২২ রান নিয়ে আমিনুলের বলে বিদায় শ্রেয়াস আয়ার। শ্রেয়াস আয়ারের বিদায়ের পর মাঠে আসেন বামহাতি ব্যাটসম্যান ঋষভ পান্থ। দেখে শুনে ব্যাটিং শুরু করেন ঋষভ।
দলীয় ৯৫ রানের মাথায় ব্যাক্তিগত ৪১ রান নিয়ে রিয়াদের বলে রান আউটের শিকার হন ধাওয়ান। ধাওয়ানের পর বেশিক্ষন মাঠে থাকতে পারেননি সিবাম। দলীয় ১০২ রানের মাথায় ব্যাক্তিগত ১ রান নিয়ে আফিফের বলে মাঠ ছাড়েন সিবাম। আফিফের পর ভারত শিবিরে আঘাত হানেন শফিউল। দলীয় ১২০ রানের মাথায় ব্যাক্তিগত ২৭ রান নিয়ে শফিউলের বলে মাঠ ছাড়েন ঋষভ পান্থ।
শেষ পর্যন্ত ভারতের সংগ্রহ ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৪৮ রান। যার ফলে বাংলাদেশের সামনে টার্গেট দাঁড়ায় ১৪৯ রান। বাংলাদেশের পক্ষ্যে সফিউল এবং আমিনুল নেন ২ উইকেট করে, আফিফ নেন ১ উইকেট।
সৌম্য ফিরে গেলে মুশফিকের সঙ্গে যোগ দেন মাহমুদউল্লাহ। দলের দুই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান দলের জয় নিশ্চিত করেই মাঠ ছাড়েন। যার নেতৃত্ব অবশ্য ছিলেন মুশফিক। খলিল আহমেদের করা ১৯তম ওভারে টানা ৪টি চার মেরে দলের জয় সহজ করে দেন তিনি।

একটি ছক্কা ও ৮টি চারে রাঙিয়ে ৪৩ বলে অপরাজিত ৬০* রান করেছেন মুশফিক। মাহমুদউল্লাহ অপরাজিত থাকেন ১৫* রানে।


অভিনন্দন বাংলাদেশ টিম কে,সামনে আরো ভালো কিছু আশা করি তোমাদের কাছ থেকে।তোমরা এগারো জন হাসলে ১৮ কোটি মানুষের মুখে হাসি ফুটে।


0 Comments