সাদেক হোসেন খোকা আর নেই।

জীবন যুদ্ধে জয়ী হতে  পারলেননা সাদেক হোসেন খোকা। চলে গেলেন সবাইকে কাদিয়ে ওপারে।
দীর্ঘদিন যাবত তিনি কিডনি ক্যান্সারে ভুগছিলেন তিনি। ২০১৪ সালের ১৪ মে চিকিৎসার জন্য ‍যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান খোকা। মুক্তিযুদ্ধের এই গেরিলা যোদ্ধা নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে স্লোয়ান ক্যাটারিং ক্যানসার সেন্টারে নিয়মিত চিকিৎসা নিচ্ছিলেন।
কিন্তু বেচে থাকা আর হলনা। চিকিৎসারত অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।
এই মহান ব্যাক্তির কর্মজীবন নিয়ে কিছু না বললে না হয়।
স্বাধীনতার পরে, তিনি ফুটবল নিয়ে কাজ করেন। তিনি ঢাকা মহানগর ফুটবল সমিতির সাধারণ সম্পাদক পদে এবং বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের পদে পদোন্নতি লাভ করেছিলেন।
সাদেক হোসেন খোকা মাওলানা ভাসানীর ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টিতে (ন্যাপ) যোগদানের মাধ্যমে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। পরবর্তীতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে (বিএনপি) যোগ দেন এবং বিএনপির ঢাকা মহানগর শাখার সভাপতি নির্বাচিত হন।
১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথম সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন এবং তাঁর দল সরকার গঠন করলে তিনি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব লাভ করেন। পরবর্তীতে ১৯৯৬ এবং ২০০১ সালেও তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন এবং ২০০১ সালে তাঁর দল সরকার গঠন করলে তিনি মৎস্য ও পশুসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব লাভ করেন। তিনি সরাসরি নির্বাচনে জয় লাভের মাধ্যমে ২০০২ সালের ২৫ এপ্রিল অবিভক্ত ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের সর্বশেষ মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ২০০২ সালের ২৫ শে এপ্রিল ঢাকার মেয়র হিসাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ২০০৪ সাল পর্যন্ত তিনি মন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন, এর আগে তিনি একই সাথে মেয়র ও মন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
২০১১ সালে, সরকার সংসদে একটি বিলের মাধ্যমে ঢাকা সিটি কর্পোরেশনকে দুই ভাগে বিভক্ত করে ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন গঠন করে। তিনি সেই সময় ২৯ নভেম্বর মেয়রের পদ থেকে পদত্যাগ করেন।
দেশে শেষ নিঃশ্বাস নেয়ার আক্ষেপ নিয়েই চলে গেলেন বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান ও অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা সাদেক হোসেন খোকা। যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বাংলাদেশ সময় সোমবার (৪ নভেম্বর) দুপুর ১টায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
আমরা এই দেশ প্রেমিকের রুহের মাগফেরাত কামনা করি।

0 Comments