বক্তৃতার পূর্ব প্রস্তুতি নেওয়ার কৌশল।



নির্ধারিত বক্তৃতার পূর্ব প্রস্তুতি।।।
-------------------------------------------------!!!
আসসালামু আলাইকুম, সবাই কেমন আছেন, আশা করি সবাই ভালো আছেন। আজকে আলোচনা করব দ্বিতীয় বিষয় তথা কিভাবে আপনি নির্ধারিত বক্তৃতা দেওয়ার জন্য  পূর্বে প্রস্তুতি নিবেন।
ত চলুন শুরু করা যাক।
মনে করেন আপনাকে একটি বিষয় সম্পর্কে বক্তৃতা দিতে হবে, এবং বিষয়টি ও আপনাকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে,। কিন্তু আপনি প্রস্তুতি কিভাবে নেবেন।
আজ আমি সেই বিষয় নিয়েই আলোচনা করছি।
বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই বক্তৃতার বিষয় সম্পর্কে বক্তা আগে থেকেই অবগত থাকেন। বক্তৃতার লক্ষ্য উদ্দেশ্য, বিষয় এবং সাথে সম্পৃক্ত সব কিছুই সময়ের পূর্বেই সুনির্দিষ্ট হয়।যখন এরকম নির্ধারিত বক্তৃতা দেওয়া হয়, তখন পূর্ব প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ পাওয়া যায়।যেমন ধরুন আপনার বক্তৃতার বিষয় ইলমে দ্বীনের গুরুত্ব ও ফজিলত, তখন আপনি মাওলানা আহমদ আলী লাহোরি ( র.) কৃত আল- কোর আনের সুচীপত্র দেখুন। এটি না পেলে আল কুরআনের বিষয়ভিত্তিক আয়াত হাফেজ মাওলানা কিতাব টি দেখুন।( অথবা আপনার যেটি ভালো লাগে)
গভীরভাবে মুতায়ালা করুন, ইলমে দ্বীনের গুরুত্ব ও ফজিলত সম্পর্কে পবিত্র কুরআন এর কোন কোন সুরায় কী কী কথা বলা হয়েছে তার মধ্য হতে আপনার পছন্দমতো দু,চারটি আয়াত লিখে নিন।অতঃপর বিস্তারিত সম্ভব না হলে তাফসীরে শায়খুল হিন্দ,বয়ানুল কুরআন বা মাআরিফুল কুরআন এর কোন একটা খুলে আয়াত গুলো বের করুন। গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি অনুধাবন করার চেষ্টা করুন ও আকর্ষণীয়,চুম্বক অংশগুলো খাতায় নোট করুন।
অতঃপর হাদীসের কিতাব সমুহের মধ্যে সহজলভ্য একটি হাদিসের কিতাব খুলে মুতায়ালা করুন। বিশ্বনবী মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাণীগুলা লিপিবদ্ধ করুন। অবশ্য আয়াতের তাফসীরের ক্ষেত্রে তাফসিরে দুররে মানসুর ও ইবনে কাসীরের সহযোগিতা নিলে নির্ধারিত একটি হাদিসের অংশ আপনার চোখের সামনে চলে আসবে। এখন আপনার কাছে তথ্যের একটি সমাহার দেখবেন।
তাই একটি চমকপ্রদ বক্তৃতা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে নিন।নিম্নে প্রস্তুতির কয়েকটি টিপস তুলে ধরা হলো -
১) সর্বপ্রথম কাজ হবে রুজু ইলাল্লাহ। প্রার্থনা করুন হে আল্লাহ, ইখলাসের সাথে, আপনার রেযা মোতাবেক ও সুন্নত অনুযায়ী এমন কিছু কথা বলার তাওফিক দান করুন,যাতে আপনার দ্বীনের ও বান্দাদের উপকার হয়।।
২) বক্তৃতার বিষয় শ্রোতা, পরিবেশ ও বক্তৃতার গুরুত্ব ভালোভাবে চিন্তা করে নিন।
৩) এ বক্তৃতার মাধ্যমে আপনি শ্রোতাদের কোন লক্ষ্যে পৌঁছাতে চান এবং কি ধারণা দিতে চান? তা ভালভাবে উপলব্ধি করুণ।
৪) পড়ালেখা করতে হবে, প্রয়োজনীয় তথ্য, রেফারেন্স ও আপনার দৃষ্টান্ত সংগ্রহ করতে হবে।
৫) গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলো নোট করতে হবে। লিখিত বক্তব্য পেশ করতে হলে বক্তৃতা খসড়া তৈরী করতে হবে। ঘরে বসে পরীক্ষামূলক বক্তৃতা দিতে হবে এভাবে মজবুত মানসিক দৃঢ়তা,প্রবল ইচ্ছা শক্তি, পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি এবং চমৎকার আয়োজন নিয়ে আত্নবিশ্বাসী ও প্রফুল্ল মনে মঞ্জে উঠতে হবে। আপনার উপস্থিতি অনুপম ও আকর্ষণীয় করতে হবে।
৬) আপনার বক্তৃতা সুন্দর হোক ও লোকেরা আপনার প্রশংসা করুক এ মনোভাব না নিয়ে লোকেরা আপনার বক্তৃতা বুঝুক এ মনোভাব নিয়ে বক্তৃতা করলে আপনার বক্তৃতা অত্যন্ত সুন্দর ও গ্রহণীয় হবে।
আমার দৃঢ় বিশ্বাস এই টিপস গুলো মেনে আপনি বক্তৃতা করলে, সবার মন জয় করতে পারবেন ইনশাআল্লাহ।
সবাই দোয়া করবেন। চলবে ইনশাআল্লাহ।
( পরবর্তীতে  আলোচনা করব কিভাবে আপনি চমৎকার উপস্থাপন  করবেন)
  আপনি ও পারবেন চেষ্টাকরু।     

0 Comments